1. munnait2020@gmail.com : newsdesk :
স্বপ্নের পদ্মা সেতু : অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী হবার আশায় বুক বাঁধছেন পিরোজপুরের ব্যবসায়ীরা - জাগো দর্পণ
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ সংক্ষেপঃ
নেছারাবাদের কুড়িয়ানা বাজারে অগ্নিকান্ডে ২১টি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত : কোটি টাকার ক্ষতি ৭ দফা দাবী নিয়ে রাস্তায় মানববন্ধনে পিরাজপুরের সরকারী কর্মচারীরা  পিরোজপুরের আশ্রয়নবাসী শিশুদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে কেক কাটলেন যুবলীগ নেতা পিরোজপুরে নানা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করলো জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ ঢাবি বিজয় ৭১ হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হলেন পিরোজপুরের তাওহীদুল সরকারিভাবে সহযোগিতা পেয়ে ভালো থাকবে ইন্দুরকানীর ক্ষতিগ্রস্থ ১০ জেলে পরিবার পিরোজপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান পিরোজপুরে বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য জেলার কৃতি সন্তান ড. কাজী সাইফুদ্দিন কাউখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিবেশীর হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধ প্রচুর বৃষ্টি উপেক্ষা করে পিরোজপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে টিসিবির পন্য বিক্রি শুরু

স্বপ্নের পদ্মা সেতু : অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী হবার আশায় বুক বাঁধছেন পিরোজপুরের ব্যবসায়ীরা

জাগো দর্পণ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২
  • ১১০ জন দেখেছেন

অনেকটা সময়ের আক্ষেপ ও অপেক্ষা। এই পদ্মা নদীর দক্ষিণ পাড়ে জীবনের অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা অগনিত। সময়ের হিসাব করলে পদ্মার দুই পাড়েই কেটেছে বহু মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বেশির ভাগ সময়। সে নিয়ে অনেক মানুষের রয়েছে অনেক স্মৃতি, যার বেশিরভাগই দু:খের। যতটা সময় পদ্মাপাড়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ অপেক্ষ করে কাটিয়েছে তা হয়তো আর কেউ করেনি। সময়মতো ফেরী বা লঞ্চ না পেয়ে অনেকের জীবন থেকে হারাতে হয়েছে অনেককিছু। সেটা হোক জীবন জীবিকা, প্রিয় মানুষকে কিংবা জীবনের সম্ভাবনাময় অনেক কিছু। বর্ষাকালে প্রচন্ড বৃষ্টির বাধা ও শীতকালের ঘন কুয়াশায় আটকে গেছে বহু মানুষের জীবনের অনেক স্বপ্ন। অপেক্ষা করতে করতে প্রতিনিয়ত নষ্ট হয়েছে কৃষকের কষ্টার্জিত অনেক ফসল।

সবকিছু মিলিয়ে পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল পদ্মার উপর এমন একটি সেতু। সেই সপ্নের দাবি আজ উদ্বোধনের অপেক্ষায়। পদ্মা সেতু কিন্তু উত্তর-দক্ষিন নয় বরং প্রভাব ফেলবে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর। অনেক সম্ভাবনা ও স্বপ্নের একটি জায়গা তৈরি হয়েছে। যার জন্ম হতে পার হতে হয়েছে অনেক চড়াই-উৎড়াই। যা দেশের জন্য অসামান্য এক অর্জন। আগামীর সম্ভবনা পদ্মা সেতু আজ উদ্বোধনের অপেক্ষায়। আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে আশায় বুক বাধছেন পিরোজপুর জেলাসহ দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বহু মানুষ।

স্বপ্নের সেতুকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে জানা যায়, পিরোজপুরে বেড়েছে জায়গা-জমির দাম। কৃষি, শিল্প, ব্যবসা বানিজ্য ও চিকিৎসা সেবা পাওয়াসহ সব কিছুতেই এসেছে আমুল পরিবর্তন। যাতায়াত বেড়েছে জেলার বিভিন্নস্থানে শিল্পকারখানা মালিকদের। জেলার কৃষিপণ্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না এখন। পদ্মা সেতু পাড়ি দিলে সব মূহুর্তেই পৌছে যাবে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়। আর্থিক খরচের সাথে বাঁচবে সময়ও। পিরোজপুরের অর্থনীতির চাকায়ও আসবে গতিশীলতা। পিরোজপুর পরিনত হবে একটি আধুনিক জেলায়।

যেসব কৃষিখাতে পিরোজপুরবাসী লাভবান হবেন সেগুলো হল, পেয়ারা, আমড়া, জেলায় উৎপাদিত শাক-সবজি, মাছ, মুরগী, দুধ, ডিমসহ আরো অনেক কিছু। সর্বশেষ করোনাকালীন ২ বছরে পেয়ারার বাজারে ধ্বস নেমে হাজার-হাজার পেয়ারা চাষী বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হয়ে নিঃস্ব হয়েছে। যা সেতুর কারনে পৌঁছে যাবে দেশের যেকোন প্রান্তে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে। দ্রæত পচনশীল কিন্তু স্বাদে-গন্ধে অদ্বিতীয় পিরোজপুরের নেছারাবাদে উৎপাদিত পেয়ারা যাবে আরো দ্রæত বিভিন্ন স্থানে। মধ্য আষাঢ়ে পেয়ারা পাকা শুরু করলে চাষীরা এবার পেয়ারার ন্যায্য মূল্য পাবেন। ফলে তাদের সংসারে ফিরে আসবে স্বচ্ছলতা। যা জেলার অর্থনীতিতে ফেলবে ব্যাপক প্রভাব।

পেয়ারা চাষী অতুল মন্ডল বলেন, আমরা পেয়ারা সংগ্রহের পর সেগুলো বাজারজাত করনে দেরী হওয়ায় সব পঁচে যায়। আমাদের সবকিছু চলেই পেয়ারার উপর। সেগুলো এখন এই পদ্মা সেতুর কারনে দ্রুত সময়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পৌছে আমাদের সুদিন ফিরবে বলে আশা করছি।

আমড়া চাষী রুহুল আমিন বলেন, পিরোজপুরের নেছারাবাদে আমড়ার চাষ করে বহু পরিবার বেঁচে আছে। যাদের এই আমড়া সংগ্রহের পর দ্রুত বাজারে প্রেরণ করতে না পারলে পঁচে যেতো। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে আমরা সেটি নিয়ে এখন আশাবাদী। বাজার ঠিকমতো ধরতে পারলে নিজেদের উন্নয়নসহ জেলার অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদন রাখতে পারবো বলে আশা আমাদের আমড়া ব্যবসায়ীদের।

পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল জলিল আকন বলেন, বহুদিনের আশা আমাদের পদ্মা সেতু আজ বাস্তব। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের জেলায় অনেক উন্নয়ন হবে এই পদ্মাসেতু উদ্বোধনে। যা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মল্লিক নাসির জানান, আমাদের এই পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে প্রতিদিন ১৫-২৫ ট্রলার মাছ আসে। গড়ে ২-৩ কোটি টাকার কেনা বেচা হয় এই বন্দরে। এই  মাছ ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবারহ করা হয়। মাওয়া ঘাটে অপেক্ষায় এই মাছ পঁচে যেতো। এখন আশা করছি পদ্মা সেতুর কারনে আমরা দ্রুত এই মাছ সারাদেশে পৌছাতে পারবো। মহাজনদের লাখ লাখ টাকা আর লোকসান দিতে হবে না। কোটি কোটি টাকার ইলিশ সহ সামুদ্রিক মাছ নিয়ে তাদের আর ভাবতে হবে না।

পিরোজপুর পৌর মেয়র ও জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রিজ এর সভাপতি আলহাজ্ব মো: হাবিবুর রহমান মালেক বলেন, পদ্মা সেতুকে নিয়ে আমাদের দক্ষিনাঞ্চলবাসীর অনেক স্বপ্ন। আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে এই উন্নয়ন অনেকটাই প্রভাব ফেলবে। উদ্বোধন যতই কাছে আসছে মানুষের আশা ও আকাঙ্খার পরিমান ততই বাড়ছে। পদ্মার দক্ষিণ পাড়ের ২১ জেলার কোটি-কোটি মানুষ, যারা যুগের পর যুগ ধরে এই একটি সেতুর অভাবে সীমাহীন দূর্ভোগ সহ্য করেছেন নীরবে। পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে মাঝারী ও বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের। আধুনিকতা পাচ্ছে কৃষি ও চিকিৎসা সেবায়ও। হোটেল মোটেল রেস্তোরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মান প্রক্রিয়া চলছে দ্রুত গতিতে।

স্বরূপকাঠী উপজেলা কৃষি অফিসার চপল কৃষ্ণ নাথ জানান, এ অঞ্চলে ৬৫০ হেক্টরে ৬ হাজার ৫০০ টন সু-স্বাদু পেয়ারা এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে এবং পেয়ারা চাষীরা লোকসান কাটিয়ে উঠে লাভের মুখ দেখতে পাড়বে।  স্বরূপকাঠী অঞ্চলে স্বাদ ও গন্ধের আরো একটি কৃষিপণ্য হচ্ছে ঘৃতকাঞ্চন জাতের বোম্বাই মরিচ। বছরে ৭০ হেক্টরেরও অধিক জমিতে ৪০০ টন বোম্বাই মরিচ উৎপাদিত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা না আসায় মরিচ চাষীরা নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতো। এখন থেকে বোম্বাই মরিচ চাষীরাও অনেক লাভবান হবে। পিরোজপুরের সুস্বাদু আমড়ার ব্যাপক উৎপাদন হয়ে থাকে স্বরূপকাঠী ও কাউখালী উপজেলায়। শুধুমাত্র স্বরূপকাঠীতেই ১৬০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ২০০ টন আমড়ার উৎপাদন হয়ে থাকে। এখন থেকে পচনশীল এ ফলটিও সরাসরি পদ্মা সেতু পেরিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং আমড়া চাষীরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

নেছারাবাদ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোশারেফ হোসেন জানান, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মানুষ এই পদ্মা সেতু উদ্বোধনে কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশি লাভবান হবে। এ অঞ্চলের এই সুমিষ্ট পেয়ারার চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যা সেতুর কারনে ছড়িয়ে পড়বে দেশের বড়-বড় শহর বন্দর অঞ্চলে। এছাড়াও উপজেলায় উৎপাদিত আমড়া, নৌকা, জাহাজ শিল্প, কাঠ শিল্প, নারিকেলের ছোবড়া, ক্রিকেট পিচ, ক্রিকেট ব্যাটসহ নানা বিষয়গুলো বিভিন্ন স্থানে দ্রুত সরবারহের ফলে জেলার অর্থনীতিতে ভালো প্রভাব পড়বে।

শেয়ার করুন

একই ধরনের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 JagoDarpan
Theme Customized BY JAGODARPAN