1. munnait2020@gmail.com : newsdesk :
চট্টগ্রামে ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত - জাগো দর্পণ
বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১১:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ সংক্ষেপঃ
নেছারাবাদের কুড়িয়ানা বাজারে অগ্নিকান্ডে ২১টি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত : কোটি টাকার ক্ষতি ৭ দফা দাবী নিয়ে রাস্তায় মানববন্ধনে পিরাজপুরের সরকারী কর্মচারীরা  পিরোজপুরের আশ্রয়নবাসী শিশুদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে কেক কাটলেন যুবলীগ নেতা পিরোজপুরে নানা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করলো জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ ঢাবি বিজয় ৭১ হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হলেন পিরোজপুরের তাওহীদুল সরকারিভাবে সহযোগিতা পেয়ে ভালো থাকবে ইন্দুরকানীর ক্ষতিগ্রস্থ ১০ জেলে পরিবার পিরোজপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান পিরোজপুরে বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য জেলার কৃতি সন্তান ড. কাজী সাইফুদ্দিন কাউখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিবেশীর হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধ প্রচুর বৃষ্টি উপেক্ষা করে পিরোজপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে টিসিবির পন্য বিক্রি শুরু

চট্টগ্রামে ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত

জাগো দর্পন ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২
  • ১৪৫ জন দেখেছেন

চট্টগ্রাম বায়েজিদস্থ গাউছুল আজম সিটিতে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে শরিয়তভিত্তিক কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের ৬৯তম পবিত্র মিরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাহফিল ও সালানা ওরছে হজরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উপলক্ষে ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলে মুসল্লিদের ঢল নামে।

মানুষ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি আশরাফুল মাখলুকাত। খালেছ অন্তরে মানুষ যখনই যেভাবে ডাকে আল্লাহ পাক সে ডাকে তখনি সাড়া দেন। রিয়া ও নফস হতে মুক্ত হলেই এবাদত কামিয়াবির পর্যায়ে পৌঁছে। এবাদতকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম নিয়ামক হলো খুলুছিয়ত তথা বিশুদ্ধ নিয়ত। প্রিয় রাসুল (দ.)-এর সমস্ত কর্মকাণ্ড এখলাসের উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। খলিফায়ে রাসুল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.) এখলাসের সুরভিত সৌন্দর্যের অলংকারে সমগ্র জীবনকে নবী প্রেমে রাঙিয়েছেন। পথহারা মানুষকে সঠিক পথের দিশা দিতে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আঁধারে আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলে উঠেছেন নূরে মোস্তফার ঐশী আহ্বানে।

গাউছিয়্যতের কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন, “আমাদের তরিক্বত হচ্ছে এছলাহে বাতেনী অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধি। তরিক্বতপন্থিদের নিয়ত খালেছ না হলে এ পথে উন্নতির আশা বৃথা”।

ফলশ্রুতিতে তিনি আল্লাহ ও রাসুল (দ.)-এর নিকট এতটাই প্রিয় হয়েছেন যে খলিলুল্লাহ ও খলিফায়ে রাসুল (দ.)-এর মর্যাদা অর্জন করেছেন। তাইতো খুলুছিয়ত প্রতিষ্ঠায় কালশ্রেষ্ঠ কিংবদন্তি খলিফায়ে রাসুল হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদস্থ গাউছুল আজম সিটিতে দিন-রাতব্যাপী অনুষ্ঠিত ৬৯তম পবিত্র মিরাজুন্নবী (দ.) উদযাপন ও কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুল্লাহ, আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (দ.) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর স্মরণে অনুষ্ঠিত ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মাননীয় মহান মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

খুলুছিয়ত প্রতিষ্ঠায় কালশ্রেষ্ঠ কিংবদন্তি খলিফায়ে রাসুল (রা.), সালানা ওরছে কাগতিয়ার মহান মোর্শেদ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, খলিফায়ে রাসুল হযরত গাউছুল আজম (রা.) তার সমস্ত জীবন আল্লাহ ও রাসুল (দ.) এর সন্তুষ্টির নিরিখে পরিচালিত করেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের জীবনকে এবাদত ও এখলাসের উপর সাজানোর জন্য তরিক্বতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। এখলাসকে মানুষের অন্তরে নবীপ্রেমের আলো দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার খোদায়ী রূপরেখা দিয়েছেন। ফলশ্রুতিতে পৃথিবীর চাকচিক্যের ভিতরে থেকেও লাখ লাখ যুবক এই মহান তরিক্বতে অর্ন্তভুক্ত হয়ে এখলাসের সাথে জীবন যাপন করছেন। তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল, শোকর ও সবর এর অনুশীলন, সুন্নাতে রাসুল (দ.) জীবনে ধারণ, দরূদ শরীফ-মোরাকাবা-ফয়েজে কুরআন-তাহাজ্জুদ-জিকিরে জলী ও জিকিরে খফির অনুশীলন, নুরে মুহাম্মদী (দ.) ক্বলবে নিয়ে আখেরাতমুখী হওয়া, আল্লাহ ও রাসুল (দ.)-এর বেঁধে দেওয়া জীবনবিধানকেই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে এই সমস্ত বিষয়বস্তুকে মনে-প্রাণে ধারণ করে জীবনে বাস্তবায়ন করার জন্য তরিক্বতকে সৃষ্টির সামনে তুলে ধরেছেন। গামারি, মেহগনি, পাতাবাহার, বরবটি গাছের পাতায় খোদায়ীভাবে এই তরিক্বতের মনোগ্রাম অঙ্কিত হওয়ার মাধ্যমে কবুল হওয়ার প্রমাণ দৃশ্যমান।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, খলিফায়ে রাসুল হযরত গাউছুল আজমের (রা.) পবিত্র বেছাল শরীফ পবিত্র মিরাজুন্নবীর (দ.) বরকতময় সময়ে। এ উপলক্ষে প্রতিবছর ওরছে পাক অনুষ্ঠিত হয়। শরীয়তসম্মত এমন ওরছ শরীফ ধরার বুকে বিরল। একচুল পরিমাণও শরীয়তের লঙ্ঘন এখানে নেই, নেই কোনো কিছু আনার রেওয়াজ। এখানে আসতে হয় একমাত্র খুলুছিয়ত নিয়ে। সমস্ত জীবন যিনি খুলুছিয়ত প্রতিষ্ঠার জন্য কেঁদেছেন, উনার ওরছে পাকে খুলুছিয়ত নিয়ে আসতে পারাই একমাত্র উপহার।

ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলের সফলতা কামনা করে বাণী প্রদান করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ওরছে পাক উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে তার এ বাণীতে সালানা ওরছে হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদও সালানা ওরছে হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সার্বিক সফলতা কামনা করেন বাণী প্রদান করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক তার বাণীতে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসাবে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের সকল কার্যক্রম ও ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।

এছাড়াও বাণী প্রদান করেছেন, বর্তমান বিশ্বের যুগশ্রেষ্ঠ রাহবার, কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সালানা ওরছে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ নূর খাঁন, প্রফেসর ড. জালাল আহমদ, হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মোহাম্মদ ইসহাক মুনিরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ সরোয়ার কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানসহ অসংখ্য দেশ দেশবরেণ্য নেতারা।

এদিন ফজরের নামাজের পর খতম শরীফ, মোরাকাবা, ঈছালে ছাওয়াব, মিলাদ-কিয়াম ও মুনাজাতের পর খতমে কুরআন আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ওরছের কর্মসূচি। পূর্ব ষোষিত তারিখ থেকে মহিলা, প্রবাসী, তরিক্বতপন্থী ও উপস্থিত মুসলিম জনতা সর্বমোট ১৬ হাজার ১২৭টি খতমে কোরআন, ২ হাজার ৫৭টি খতমে তাহলীল এবং ১৫৭টি খতমে ইউনুছ আদায় করেন।

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও কাগতিয়া দরবার থেকে পূর্বেই ঘোষিত হয়েছিল- ওরছে কারোর কাছ থেকে গরু-মহিষ-ছাগল, টাকা-পয়সা, নজর-নেওয়াজ ইত্যাদি নেওয়া হবে না, চলবে না শরীয়ত পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপ, শুধু কোরআন-সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণে পালিত হবে এ মহা মনীষীর সালানা ওরছ।

অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে সুমধুর সুরে কুরআন তিলাওয়াত, তাহলিল ও নিম্নস্বরে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ জিকির এবং নবী (দ.)-এর শানে দরূদ পাঠ। এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, প্রশান্তিময় পরিবেশ।

শুধু দেশের নয়, সপ্তাহজুড়ে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ-মধ্যপ্রাচ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসা কাগতিয়া দরবারের শত শত অনুসারীরাও এতে অংশ নেয়। বিদেশে অবস্থানরত এ মনীষীর অনুসারীরাও বাদ পড়েননি। তারাও বিভিন্ন শাখা কার্যলয়ে ও স্ব স্ব স্থানে বসে আর নারীরা নিজেদের ঘরে বসে কুরআন তিলাওয়াত করেছেন।

সালানা ওরছে যোগদানের উদ্দেশ্যে সকাল থেকেই চট্টগ্রামের আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, পটিয়া ছাড়াও রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, মহেশখালী থেকে গাড়িযোগে কাগতিয়া দরবারের অসংখ্য অনুসারী, ভক্ত ও সাধারণ মুসলমানেরা সালানা ওরছে আসতে থাকেন। চট্টগ্রাম ছাড়া ফেনী, কুমিল্লা, বি.বাড়িয়া, চাঁদপুর ও ঢাকা থেকেও কাগতিয়া দরবারের হাজার হাজার অনুসারী ও মুসলমানেরা উপস্থিত হন। সালানা ওরছে যোগদানের জন্য শুধু দেশের নয়, বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবসহ ওমান, কাতার, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবী, শারজাহ্ হতেও কাগতিয়া দরবারের অনুসারীরা সপ্তাহখানেক পূর্ব থেকে বাংলাদেশে আসেতে থাকেন।

সালানা ওরছ উপলক্ষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আলোকসজ্জিত করা হয়। মাগরিবের আগেই গাউছুল আজম কমপ্লেক্সের বিশাল ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

পরিশেষে মিলাদ কিয়াম, প্রিয় রাসুল (দ.) ও খলিফায়ে রাসুল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজমের (রা.) খুলছিয়তের ওসিলায় দেশ জাতির কল্যাণ, উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি এবং হযরত গাউছুল আজমের (রা.) ফুয়ুজাত কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে এখলাসময় এবাদতের মহাকর্মযজ্ঞ সমাপ্ত হয়।

শেয়ার করুন

একই ধরনের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 JagoDarpan
Theme Customized BY JAGODARPAN