1. munnait2020@gmail.com : newsdesk :
আজ পিরোজপুর হানাদার মুক্ত দিবস - জাগো দর্পণ
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ সংক্ষেপঃ

আজ পিরোজপুর হানাদার মুক্ত দিবস

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর
  • প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৯৭ জন দেখেছেন

সালটা ১৯৭১। দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ যখন নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা আদায়ে ব্যাস্ত। যখন তারা দিশেহারা প্রায় ঠিক তখনই মুক্তির দূত হয়ে সামনে আসলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনাদের অতর্কিত হামলায় যখন বাঙালী অপ্রস্তুত ভাবে ভেঙে পড়ে ঠিক তখনই স্বাধীনতার মুক্তির স্লোগান নিয়ে পাশে দাড়িয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার স্বাধীনতা ঘোষণার ১৮ ঘন্টার মধ্যে পিরোজপুরের মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্রাগার ভেঙ্গে অস্ত্র গুলি নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নেয়।

৩ মে ১৯৭১ পিরোজপুরে প্রথম পশ্চিম পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী প্রবেশ করে। বরিশাল থেকে গানবোটে চড়ে ৩২ পাঞ্জাব ও ২২ বালুচের ২ প্লাটুন বর্বর সৈন্য শহরের প্রবেশদ্বার হুলারহাট নৌ-বন্দর থেকে শহরে প্রবেশের পথে প্রথমেই তারা মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগর গ্রামে শুরু করে নারকীয় গণহত্যা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুর ছিল মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের অধীন সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের কমান্ডের আওতায়। ৪ মে থেকে তারা শুরু করে নিরাপরাধ নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যাযজ্ঞ। জ¦ালিয়ে দেয় শহরের শতশত বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও খাদ্যগুদাম। ৮ মাস স্থানীয় শান্তি কমিটির নেতা ও রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা, সংখ্যালঘু ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকজনদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মূল মন্ত্র বুকে ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করার অপরাধে ৫ মে পিরোজপুরের বলেশ^র নদের বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তখনকার মহাকুমা প্রশাসক মো: আব্দুর রাজ্জাক, ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল বারী মো: মিজানুর রহমান, মহাকুমা পুলিশ অফিসার ফয়জুর রহমান আহমেদসহ বিভিন্ন অফিসের সরকারি কর্মকর্তাদের। এভাবে ৮ ডিসেম্বর পালিয়ে যাওয়ার দিন পর্যন্ত বর্বর হায়েনারা ৩০ সহশ্রাধিক মুক্তিকামী নারী-পুরুষ ও শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করে। পিরোজপুর মহাকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি ও এখানে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্রনেতা ওমর ফারুক, ফজলুল হক খোকন, বিধান মন্টু, সেলিম, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ১ম স্থান অধিকারকারী গণপতি হালদার, জিয়াউজ্জামান, গৃহবধু ভাগিরথী সাহাসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে পৈশাচিকভাবে বলেশ্বর খেয়াঘাটের বধ্যভূমিসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যা করা হয়।

পিরোজপুরকে হানাদার মুক্ত করতে সুন্দরবনের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের নির্দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ৭ ডিসেম্বর রাতে এবং হাবিবুর রহমান সিকদারের নেতৃত্বে আরেকটি শক্তিশালী দল নাজিরপুরের পথ ধরে শহরের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসার খরব পেয়ে দখলদার বাহিনী পিরোজপুর ছেড়ে গানবোটে চড়ে বরিশালের দিকে পালিয়ে যায়। এর আগে স্বরূপকাঠির কুড়িয়ানা এলাকার পেয়ারা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্গে পাকবাহিনী আক্রমণ করে। ওই সময় যুদ্ধে বহু পাকসেনা নিহত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয়। শেষে ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর ছেড়ে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যাবার দিন তারা ন্যাশনাল ব্যাংক লুট করে সেখানে গচ্ছিত টাকা এবং স্বর্ণ নিয়ে যায়।

এভাবেই ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর হানাদার মুক্ত হয়। পিরোজপুরের ইতিহাসে এ দিনটি বিশেষ স্মরণীয়। এ দিনে পিরোজপুর পাকহানাদার, রাজাকার, আলসামস ও আলবদর মুক্ত হয়। এ দিনে ঘরে ঘরে উড়েছিল লাল সবুজের বিজয় পতাকা।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষে পিরোজপুর মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আজ সকাল সাড়ে ৯ টায় শহীদ ভাগিরথী চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব মাঠে স্বাধীনতা মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিটে পিরোজপুর ইয়ূথ সোসাইটির আয়োজনে আলোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন

একই ধরনের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 JagoDarpan
Theme Customized BY JAGODARPAN